ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আ ক ম জামাল উদ্দিনের সঙ্গে রাজধানীর ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ফুল দিতে গিয়ে গতকাল রোববার আটক হন মো. সাকিব, মো. জিহাদুল ইসলাম জিহাদ ও রায়হান রিফাদ নামে তিন শিক্ষার্থী। সেদিনই শিক্ষককে ছেড়ে দিলেও আড়াই মাস আগের ধানমন্ডি থানায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে ওই তিন ছাত্রকে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।
সোমবার বিকেলে তিনজনকে আদালতে হাজির করে ধানমন্ডি থানার পুরোনো ওই মামলায় কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ইকবাল আহমেদ জিন্নাহ। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সাংবাদিকদরা পরিচয় জানতে চাইলে সাকিব মিরপুর গভমেন্ট রূপনগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, মো. জিহাদুল ইসলাম নোয়াখালীর হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী এবং রিফাত রায়হান বরিশালের রূপধন বন্দর আমিরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানান। রায়হান ও সাকিব তাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে বলেও দাবি করেন। শুনানির সময় আসামি রিফাতের বাবা রাজমিস্ত্রী মনিরুজ্জামান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
একটু পর শুনানি শুরু হলে তিনজনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনে এসআই ইকবাল আহমেদ জিন্নাহ বলেন, আসামিরা ছাত্রলীগের সদস্য বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। গত বছরের ৩০ নভেম্বর ধানমন্ডির কাজী নজরুল ইনস্টিটিউটে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে বিভিন্ন স্লোগান ও মিছিল দেয়ার মামলায় এই তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তারসহ কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়।
এসময় আসামিপক্ষে আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম, এম জাকির হোসেন, শাহাব উদ্দিন রাজুসহ আরো কয়েকজন আইনজীবীরা জামিন চান। আইনজীবীরা আদালতে বলেন, ধানমন্ডি থেকে তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু ঘটনা দেখিয়েছে অনেক আগের। এ তিন আসামির রাজনৈতিক কোনো পরিচয় নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকসহ কয়েকজন বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা জানানোর জন্য সেখানে যায়। তাদেরকে গতকাল পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে । কিন্তু এই তিনজনকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসছে। এদের মধ্যে দুইজনের রায়হান ও সাকিবের বয়স ১৮ এর নিচে। এদের সাথে যাদের নিয়ে গেলো তাদেরকে তো ছেড়ে দিয়েছে। এদের কেনো ধরে রাখা হলো। বয়স এবং অপরাধের সংশ্লিষ্ট না থাকার বিবেচনায় তাদের জামিন আবেদন করছি।পরে আদালত বলেন, কোর্টের নোটিশ নিয়ে আসলে পরে বয়সের বিষয়টি দেখবো। আদালত তখন আরও বলেন, ফেইস বোঝা যাচ্ছে তারা আন্ডার এজ। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গতকাল গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের আড়াই মাস আগের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো। তিনজনের একজনও এজাহারভুক্ত আসামি না। অজ্ঞাতনামা হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তারা শিক্ষার্থী। দুইজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। তারা শিক্ষকের সাথে ধানমিন্ডতে ফুল দিতে যায়। এটা কোনো অপরাধ হলে এই ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তার হলেও কথা ছিল। এটা এক ধরণের অবিচার।
এদিকে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গত বছরের ৩০ নভেম্বর ধানমন্ডির কাজী নজরুল ইনস্টিটিউটে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে বিভিন্ন স্লোগান ও মিছিল দিতে থাকেন।
এসময় সেখানে ধানমন্ডি ২২ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি শওকত ওসমান বাবু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্রলীগ কর্মী মিলন খানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় গতকালকে গ্রেপ্তার এ তিন আসামিকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন ধানমন্ডি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. আল হেলাল।
Lorem Ipsum has been the industry’s standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen.
Lorem Ipsum has been the industry’s standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen.
Lorem Ipsum has been the industry’s standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen.