হোম | সারাবাংলা
  • বিস্তারিত খবর

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও মেয়াদ–পদ শূন্য হওয়ার বিধান কী বলে আইন

/ ২ ঘন্টা আগে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও মেয়াদ–পদ শূন্য হওয়ার বিধান কী বলে আইন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভাও দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরদার হয়েছে—রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে হতে পারে এবং সেই প্রক্রিয়া কী, তা নিয়ে চলছে নানা প্রশ্ন।

বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব নিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে। গণঅভ্যুত্থানের পর তার পদত্যাগের দাবি উঠলেও বিএনপি শুরু থেকেই অপসারণের বিরোধিতা করে। শেষ পর্যন্ত তার কাছেই নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। বর্তমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্বের মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ শূন্য না হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ নেই।রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয় যেভাবে

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ তিনভাবে শূন্য হতে পারে—

১. মেয়াদ শেষ হলে,

২. পদত্যাগ করলে,

৩. অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ হলে।

একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুইবার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা Reuters-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন নির্বাচনের পর সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, নতুন সরকারের আমলে পরিবর্তনের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলে তা কার্যকর হয়; এ ক্ষেত্রে অভিশংসনের প্রয়োজন পড়ে না। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার এখনো নির্বাচিত না হওয়ায় বিষয়টি প্রক্রিয়াগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয় যেভাবে

সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ও যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। পদ শূন্য হলে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করে এবং সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। প্রার্থী হতে হলে ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর হতে হবে এবং সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব থাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ওপর। তিনি ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে তপশিল ঘোষণা করেন। একক প্রার্থী হলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয় না।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ পূর্তির কারণে পদ শূন্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। তপশিল ঘোষণার পর সংসদ অধিবেশন চলাকালীন ভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রয়োজনে বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা যেতে পারে।ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্ন

বাংলাদেশের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোয় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। এ কারণে অনেকেই পদটিকে আনুষ্ঠানিক বা আলংকারিক বলে মনে করেন। তবে রাজনৈতিক সংকট বা নির্বাচনকালীন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন, যা সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।

এদিকে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, সেই অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে রাষ্ট্রপতি পদে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

3 Comments:

  1. Lorem Ipsum has been the industry’s standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen.

    1. Lorem Ipsum has been the industry’s standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen.

    Lorem Ipsum has been the industry’s standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked